বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

স্বরচিত কবিতাঃ নিদারুণ শীত


স্বরচিত কবিতাঃ নিদারুণ শীত
মোঃ মতিউর রহমান।

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত! 
কারো সুখ, শখের পোশাক
গরম লেপ, কাঁথা গায়ে জড়িয়ে।
কারো কষ্ট, নষ্ট ঘুমের স্বপন
খোলা গগনের নীচে গা ছড়িয়ে। 

আহা! শীত, শীত, শীত
কী নিদারুণ শীত!
কারো উৎসব, পিঠা, পায়েস
আয়েশ, রসনায় স্বাদ আস্বাদন।
কারো হা-ভাত, যায় দিন রাত
অনাহারে, নগ্নদেহে শীত অবগাহন।

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত! 
কুহেলী চাদরে, উষ্ণতার আদরে
কারো ভাঙ্গে না অলসতার ঘুম।
কারো চোখের পাতা, লেখে
কল্পকথা, রাতের সাথে চাঁদ নির্ঘুম। 

আহা! শীত, শীত, শীত
কী নিদারুণ শীত! 
বিত্তের বিলাসিতা আর ভুরিভোজ
তেলে মাথায় তেল পেয়ে সন্তোষ।
দুস্থ ও দীনহীনের বড় হাহাকার
ঘুমায় মানবতা, শীতও নির্বিকার। 

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত!
হিমেল হাওয়া বয় শিরশিরিয়ে
বৃক্ষের বৃথা বুকে সব পাতা ঝরিয়ে।
হলুদ সরষে সাগর মাঠ আর মাঠ
শীত তো সবার তরে যেবা দিন রাত। 
"""""""""""""""""""""""""""""""

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

কবিতাঃ হেমন্তে,,,,



হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
ভোর রাতে কুয়াশা চাদর
দূর্বা ঘাসে শিশির আদর
ঝলমলে আলো
সুনীল আকাশ।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
উত্তরের হিম হিম হাওয়া
প্রকৃতির অঙ্গে আলতো ছোয়া
শিহরণ জাগে
শিহরিত চারপাশ।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
পত্রপল্লবের যবনিকাপাত
অঝোরে ঝরাবে দিনরাত। 
মরা পাতার দীর্ঘশ্বাস, 
শীতের পূর্বাভাস।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
কৃষকেরা নিতি মাঠে মাঠে
মগ্ন কাস্তে নিয়ে হাতে। 
গলা ছেড়ে গান, 
কাটে সোনা ধান।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
ছড়া ছড়া সোনা ধানের শিষে
সুরভি মাখা বাতাস মিশে। 
মৌ মৌ মিষ্টি ঘ্রাণ, 
হয় পুলকিত প্রাণ।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
পত্রপল্লবের যবনিকাপাত
অঝোরে ঝরাবে দিনরাত। 
মরা পাতার দীর্ঘশ্বাস, 
শীতের পূর্বাভাস।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
উঠানে উঠানে সোনা ধান
কৃষকের ক্লান্তি করে ম্লান। 
শিরনি, ফিরনি, পলান্ন, 
পাড়ায় পাড়ায় নবান্ন। 

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি
বকফুলও আছে ভুরি ভুরি। 
বনবাদাড়ে নয়ন কাড়ে, 
নাম না জানা ফুল বন্য।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
পত্রপল্লবের যবনিকাপাত
অঝোরে ঝরাবে দিনরাত। 
মরা পাতার দীর্ঘশ্বাস, 
শীতের পূর্বাভাস।

হেমন্তে,,,,,,,,,, 
মেলায় মুড়ি, ময়া, লাঠিখেলা,
শখের চুড়ি, হাঁড়ি, নাগরদোলা। 
বাপের বাড়ি নাইওর, 
জামাইয়ের সমাদর।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
মন ভরে যায় রোজ মিষ্টি রোদে
পিঠা পুলিও খাই নানান পদে।
হেমন্ত ঐশ্বর্যে উদার, 
অনন্য প্রকৃতির উপহার।

হেমন্তে,,,,,,,,,,, 
পত্রপল্লবের যবনিকাপাত
অঝোরে ঝরাবে দিনরাত। 
মরা পাতার দীর্ঘশ্বাস, 
শীতের পূর্বাভাস।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

নদীরে



কবিতাঃ নদীরে
মোঃ মতিউর রহমান।
""""""""""""""""""""""""""
নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

বসতবাড়ি নিলে কাঁড়ি
চারপুরুষের ধাম।
ভূমিহীন কতই না ঋণ
দিনমজুর আজ নাম।
অগাধ জমি ছিল আমার
করিতাম চাষবাস।
সবকিছু কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

অনেক খরচ পানের বরজ
আম, সুপারির বাগ।
মিঠা মাছের পুকুর ছিল
যা করি নাই ভাগ।
সেটাও নিলে চার ছেলেমেয়ে
মাথায় পড়ল বাঁশ।
সবকিছু কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

গোরস্থানে এই একটা কবর
শেষ স্মৃতি চিহ্ন।
এই দুনিয়ায় নাইরে কিছু
আমার ঐটুকু ভিন্ন।
দয়ামায়া কি নাইরে নদী
তাও কেড়ে নিতে চাস।
সবকিছুতো কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

""""""""""""""""""""""""""""""""""""

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

হ্যালুসিনেশন - মোঃ মতিউর রহমান।


হ্যালুসিনেশন

-------মোঃ মতিউর রহমান ।

''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''

তোমার কথার কুসুম ফোটে
মন বাগিচায়।
হিয়ার উঠোনে হাটছো তুমি
আলতো পা'য়।
আমারে ঘিরিয়া রয়েছ তুমি
ছায়ার মতন।
সত্য নাকি সব মনের ভুল
হ্যালুসিনেশন।

তোমার মুক্ত হাসির হাস্যরসে
সুখের পরশ।
তোমায় ভেবে ভুবন আমার
উষ্ণ সরস।
আমারে ঘিরিয়া রয়েছ তুমি
বায়ুর মতন।
সত্য নাকি সব মনের ভুল
হ্যালুসিনেশন।

কত কথা কই হাটছি আমি
তোমার সাথে।
জীবন রাহী রেখেছো হাত
আমার হাতে।
আমারে ঘিরিয়া রয়েছ তুমি
ছায়ার মতন।
সত্য নাকি সব মনের ভুল
হ্যালুসিনেশন।

নয়ন তারা রুধির ধারা উচ্ছ্বসিত
প্রাণের বায়ু।
অনুভবি অনুভবে প্রিয় কাবেরী
সকল স্নায়ু।
আমারে ঘিরিয়া রয়েছ তুমি
ছায়ার মতন।
সত্য নাকি সব মনের ভুল
হ্যালুসিনেশন।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
সম্পাদনাঃ 
মোঃ মতিউর রহমান।

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

মাটির বাড়ি - মোঃ মতিউর রহমান।


কবিতা

মাটিরবাড়ি
------মোঃ মতিউর রহমান।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''

তোরা সুযোগ পেলে
দেখতে আসিস
আমার মাটির বাড়ি।

মোহ মায়া দুনিয়াটা
যখন যাব ছাড়ি।
বাড়ি আমার একখানা ঘর
নাই জানালা নাই কোন দোর
সেথা একাকী ঘুম পাড়ি।
তোরা সুযোগ পেলে
দেখতে আসিস
আমার মাটির বাড়ি।

কাঁচা বাঁশ আর কলা পাতায়
আমার ঘরের ছাদ।
নাইরে চন্দ্র নাইরে সৃর্য
শুধুই আঁধার রাত।
অন্ধকারে পরপারে
দেব যখন পাড়ি।
তোরা সুযোগ পেলে
দেখতে আসিস
আমার মাটির বাড়ি।

দুনিয়াদারি অনেক হল
ভবের হাট বাজার।
পাপ পৃণ্যের হিসাব নাইরে
কি হবে আমার।
আমি শুধুই আহাজারি।
তোরা সুযোগ পেলে
দেখতে আসিস
আমার মাটির বাড়ি।

আমার রক্ত আমার ভক্ত
যত বন্ধু সুধীজন।
মাফ করিও দোষ ত্রুটি
ঋণ আমার মিথ্যা পণ।
দুই পাণি জোড় করি।
তোরা সুযোগ পেলে 
দেখতে আসিস
আমার মাটির বাড়ি।
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
সম্পাদনাঃ
মোঃ মতিউর রহমান।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

মাটির পুতুল - মোঃ মতিউর রহমান।


মাটির পুতুল
মোঃ মতিউর রহমান।
""""""""""""""""""""""""""""""""""""
একটা মাটির পুতুল
আছে আমার ঘরে।
অবাক হয়ে শুনি
কত কথা বলে।
সামনে পেছনে ঘুরে
গানেতে নিত্য করে
মিন্নাত দিয়েছি নাম
তার আদর করে।

একটা মাটির পুতুল
আছে আমার ঘরে।
মুখের হাসিতে তার
ক্লান্তি করে চুরমার।
প্রশান্তি আনে প্রাণে
এ ঘর ভরে।

একটা মাটির পুতুল
আছে আমার ঘরে।
চঞ্চল প্রজাপতি
ছুটে সে ইতিউতি।
দু'হাত থামে না
তার বারন করে।

একটা মাটির পুতুল
আছে আমার ঘরে।
নতুন জামায় খুশি
সারাবেলা খুনশুটি।
গড়ছি কোলে পিঠে
আদর করে।

একটা মাটির পুতুল
আছে আমার ঘরে।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

সম্পর্কটা - মোঃ মতিউর রহমান।



সম্পর্কটা
মোঃ মতিউর রহমান।
"""""""""""""""""""""""""""""""
ফাগুন আসে, বছর মাসে
কোকিলের কুহুতানে,
ভোমরের গুঞ্জরনে
হৃদয় ভরে যায় ফুলের বাসে।

ফাগুন আসে, বছর মাসে
তোমার কথা শুধু হৃদয়ে ভাসে।
তোমার প্রেরণায় কবি আমি
কথার কুসুম ফোটে সহসাই,
শুধু সম্পর্কটা,
সম্পর্কটা আর আগের মত নাই।

গ্রীষ্ম আসে, বছর মাসে
রসালো ফলের সমাহার, 
আম কুড়ানো দিন ফিরে পাবার
ঝড়ের দিনগুলো স্মৃতিতে ভাসে।

গ্রীষ্ম আসে, বছর মাসে
তোমার কথা শুধু হৃদয়ে ভাসে।
তোমার প্রেরণায় কবি আমি
কথার কুসুম ফোটে সহসাই,
শুধু সম্পর্কটা,
সম্পর্কটা আর আগের মত নাই।

গ্রীষ্ম আসে, বছর মাসে
রসালো ফলের সমাহার, 
আম কুড়ানো দিন ফিরে পাবার
ঝড়ের দিনগুলো স্মৃতিতে ভাসে।
                                                    ,,,,,,,,,,,অসমাপ্ত। 

শেষ স্মৃতি চিহ্ন - মোঃ মতিউর রহমান।


নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

বসতবাড়ি নিলে কাঁড়ি
চারপুরুষের ধাম।
ভূমিহীন কতই না ঋণ
দিনমজুর আজ নাম।
অগাধ জমি ছিল আমার
করিতাম চাষবাস।
সবকিছুই কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

অনেক খরচ পানের বরজ
আম, সুপারির বাগ।
মিঠা মাছের পুকুর ছিল
যা করি নাই ভাগ।
সেটাও নিলে চার ছেলেমেয়ে
মাথায় পড়ল বাঁশ।
সবকিছুই কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।

গোরস্থানে এই একটা কবর
শেষ স্মৃতি চিহ্ন।
এই দুনিয়ায় নাইরে কিছু
আমার ঐটুকু ভিন্ন।
দয়ামায়া কি নাইরে নদী
তাও কেড়ে নিতে চাস।
সবকিছুই কেড়ে নিলি
তুই বড় সন্ত্রাস।

নদীরে,
সারাজীবন করলি রে তুই
আমার সর্বনাশ।
যা দিয়েছিস কেড়ে নিয়েছিস
সব করেছিস গ্রাস।
  • """""""""""""

ফেসবুক - মোঃ মতিউর রহমান।


বৃদ্ধাঙ্গুল ঘুরিয়ে
এমবি ফুরিয়ে।
রাতে আর দিনে
মোবাইলের স্ক্রিনে।
অন রাখি লুক
সেটা ফেসবুক,
ফেসবুক।

লাইক, কমেন্ট
শেয়ারে।
প্রিয়জনের
কেয়ারে।
হাসি ভরা মুখ।
সেটা ফেসবুক,
ফেসবুক।

ঘটনা দুর্ঘটনা
অপপ্রচার রটনা।
গল্প, কবিতা
সংগ্রামী ছবিটা।
টাইমলাইন বুক,
সেটা ফেসবুক,
ফেসবুক।

মজলুম, দুস্হের
আহাজারি।
রোগ, শোক,
মহামারী।
আর মিথ্যে হুজুগ,
সেটা ফেসবুক,
ফেসবুক।

চ্যাটিং এসএমএসে
ডেটিং রোজ।
অনলাইন বিজনেস
ফ্যাশনের পোজ।
এই মিডিয়ার সুখ,
সেটা ফেসবুক,
ফেসবুক।

আবহাওয়া পূর্বাভাস
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়।
নিমিষে পৃথিবী হাতে
এক বাড়ি ঘর।
মানবজাতি আরো
বিস্ময় আনুক।
আহা! ফেসবুক,
ফেসবুক। 
"""""""""""