ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

স্বরচিত কবিতাঃ নিদারুণ শীত


স্বরচিত কবিতাঃ নিদারুণ শীত
মোঃ মতিউর রহমান।

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত! 
কারো সুখ, শখের পোশাক
গরম লেপ, কাঁথা গায়ে জড়িয়ে।
কারো কষ্ট, নষ্ট ঘুমের স্বপন
খোলা গগনের নীচে গা ছড়িয়ে। 

আহা! শীত, শীত, শীত
কী নিদারুণ শীত!
কারো উৎসব, পিঠা, পায়েস
আয়েশ, রসনায় স্বাদ আস্বাদন।
কারো হা-ভাত, যায় দিন রাত
অনাহারে, নগ্নদেহে শীত অবগাহন।

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত! 
কুহেলী চাদরে, উষ্ণতার আদরে
কারো ভাঙ্গে না অলসতার ঘুম।
কারো চোখের পাতা, লেখে
কল্পকথা, রাতের সাথে চাঁদ নির্ঘুম। 

আহা! শীত, শীত, শীত
কী নিদারুণ শীত! 
বিত্তের বিলাসিতা আর ভুরিভোজ
তেলে মাথায় তেল পেয়ে সন্তোষ।
দুস্থ ও দীনহীনের বড় হাহাকার
ঘুমায় মানবতা, শীতও নির্বিকার। 

আহা! শীত, শীত, শীত 
কী নিদারুণ শীত!
হিমেল হাওয়া বয় শিরশিরিয়ে
বৃক্ষের বৃথা বুকে সব পাতা ঝরিয়ে।
হলুদ সরষে সাগর মাঠ আর মাঠ
শীত তো সবার তরে যেবা দিন রাত। 
"""""""""""""""""""""""""""""""

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সাতকাহন

রোজা ইসলামের তৃতীয় ভিত্তি।
সূর্য ওঠার আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলে।
রোজা শব্দের আভিধানিক অর্থ জ্বালিয়ে দেয়া।
কারন মানুষের গুনাহ গুলোকে জ্বালিয়ে বান্দাকে মুত্তাকী করে তোলে। রোজা ইসলামের তৃতীয় রোকন। প্রত্যেক সাবালক নারী পুরুষদের উপর রোজা ফরজ। কাফ্ফারার রোজা ও মানতের রোজা ওয়াজিব। আশুরার দিনের রোজা সুন্নাত, প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের রোজা, জুমুআর দিনের, ৯ই জিলহজের এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মুস্তাহাব।
প্রকাশ থাকে যে, বছরে যে ৫দিন রোজা রাখা হারামঃ
ঈদুল ফিতরের দিন, ঈদুল আযহার দিন এবং তার পরের তিন দিন।

রোজার নিয়ত করার নিয়মঃ

রমজানের রোজা, নিদিষ্ট মানতের রোজা, নফল রোজা ইত্যাদিতে সকাল হতে দুপুরের আগে নিয়ত করতে হবে। রমজানের কাযা, অনিদিষ্ট মানত ভ কাফ্ফারার রোজার নিয়ত ফজরের আগে করতে হবে। অন্তরে নিয়ত করতে হবে। মুখে বলা মুস্তাহাব বা ভাল।

রোজার নিয়তঃ

নাওআইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদ্বানাল মুবারাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাক্বাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম।

ইফতারের দোয়াঃ

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কলতু আ'লা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন। 

যে সব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়ঃ

@ ইচ্ছাকৃত কোনকিছু পান করলে 
@ ইচ্ছাকৃত কোনকিছু আহার করলে 
@ ইচ্ছাকৃত স্বামী স্ত্রী সহবাস করলে
@ ইচ্ছাকৃত ঔষধ ও ধূমপান করলে 
@ স্বেচ্ছায় মুখভর্তি বমি করলে 
@ গলায় বৃষ্টির পানি প্রবেশ করলে
@ স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শে বীর্যপাত হলে
@ মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনের ফলে বীর্যপাত হলে
 (কবিরা গুনাহের যে তালিকা মহানবী (সঃ) দিয়েছেন, তার মধ্যে হস্তমৈথুন একটি জঘন্য কবিরা গুনাহ।)
@ সিঙ্গা লাগালে
(সিঙ্গা হলো একধরনের কাপ যা শরীরে লাগানো হয়। যার ফলে প্রচুর পচা রক্ত বের হয়ে ব্যথা, জ্বালা পোড়া কমায়। শরীর থেকে এক কাপ পরিমাণ রক্ত পড়লে রোজা ভেঙ্গে যায়।) 
@ অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুলির পানি গলার ভেতরে গেলে
@ কাঁকর জাতীয় ঘৃণিত বস্তু গিলে ফেললে
@ ভুলবশত আহার করে রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পুণরায় পেট পুরে খেলে
@ জবরদস্তি কেউ কিছু খাওয়ালে
@ নাক কানে এমন ঔষধ দেওয়া যা পেটে বা মাথায় পৌছে যায়
@ রাত মনে করে সকালে সেহরী করলে
@ সন্ধ্যা হওয়ার আগে ইফতার করলে
@ ছোলা পরিমাণ খাবার গিলে ফেললে

যে সব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় নাঃ

@ বমি উঠে নেমে গেলে
@ মনের ভুলে পানাহার করলে
@ সুরমা ব্যবহার করলে
@ খুশবু, আতর ব্যবহার করলে
@ থু থু গিলে ফেললে
@ অনিচ্ছাকৃত ধুলা, ধোঁয়া গলায় ঢুকলে
@ হঠাৎ কানে পানি গেলে
@ স্বামীর ভয়ে তরকারীর স্বাদ জিহ্বায় নিলে

রোজার মাকরুসমূহঃ

  • @ স্ত্রীকে চুম্বন, স্পর্শ ও আলিঙ্গন করলে
  • @ কোন কারণ ছাড়া চর্বন ও স্বাদ গ্রহন করলে
  • @ ঠান্ডা গ্রহণের জন্য হাত, মুখ ধোয়া ও কুলি করলে
  • @ গামছা ভিজিয়ে মাথায় দিলে

রোজার কাফ্ফারাঃ

রোজার কাফ্ফারার বিধান হলো একটি রোজার বদলে ধারাবাহিক ২ মাস রোজা রাখতে হবে। তা আদায় করতে অক্ষম হলে ৬০ জন ফকিরকে ফিতরা পরিমাণ দান করতে হবে। অথবা ৬০ জন মিসকিনকে পেট ভরে খাওয়ালে রোজার হক আদায় হয়ে যাবে।

যে অবস্থায় রোজা কাযা করা যায় -

  • @ পীড়িত ব্যক্তির রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলে
  • @ ঋতুবর্তী নারী
  • @ মুসাফির
  • @ পাগল
  • @ গর্ভবতী ও স্তন্যদায়িনী জননী

রোজার ফজিলতঃ

প্রথম রোজায়ঃ
 রোজাদারকে নবজাতকের মত নিষ্পাপ করে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় রোজায়ঃ
রোজাদারের মা বাবাকে মাফ করে দেওয়া হয়।
তৃতীয় রোজাঃ
একজন ফেরেশতা আবারো রোজাদারের ক্ষমার ঘোষণা দেন।
চতুর্থ রোজাঃ
আসমানী বড় বড় চার কিতাবের বর্ণ সমান সওয়াব প্রদান
পঞ্চম রোজাঃ
মক্কা নগরের মসজিদে হারামে নামাজ আদায়ের সওয়াব প্রদান
ষষ্ঠ রোজাঃ
ফেরেশতাদের সাথে ৭ম আকাশে বাইতুল মামুর তাওয়াফের সওয়াব প্রদান
সপ্তম রোজাঃ
ফিরাউনের বিরুদ্ধে মুসা (আঃ) এর পক্ষ হয়ে যুদ্ধে সহযোগিতার সওয়াব প্রদান
অষ্টম রোজাঃ
ইব্রাহিম (আঃ) এর মতো রহমত প্রাপ্তি
নবম রোজাঃ
নবী রাসূলগনের সাথে দাঁড়িয়ে ইবাদতের সমান সওয়াব প্রাপ্তি
দশম রোজাঃ
উভয় জাহানের কল্যাণ প্রাপ্তি
১১তম রোজাঃ
মৃত্যুতে নবজাতকের মত নিষ্পাপ নিশ্চিত করা
১২তম রোজাঃ
হাশরের ময়দানে চেহারা মুবারাক পূর্ণিমা চাঁদের মত উজ্জ্বল করা
১৩তম রোজাঃ
হাশরের ময়দানে সকল প্রকার বিপদ আপদ হতে নিরাপত্তা
১৪তম রোজাঃ
হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশ সহজীকরণ করা
১৫তম রোজাঃ
সমস্ত ফেরেশতাগণের দোয়া প্রাপ্তি
১৬তম রোজাঃ
আল্লাহ কর্তৃক রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি
১৭তম রোজাঃ
একদিনের জন্য নবীগণের সমান সওয়াব প্রাপ্তি
১৮তম রোজাঃ
রোজাদার ও তার মা বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ
১৯তম রোজাঃ
পৃথিবীর সকল পাথর, কংকর, টিলা, টংকর এর দোয়া
২০তম রোজাঃ
রোজাদারকে আল্লাহর পথে জীবনদানকারী শহীদদের সমান সওয়াব দান
২১তম রোজাঃ
রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি উজ্জ্বল প্রাসাদ নির্মাণের সংবাদ
২২তম রোজাঃ
হাশরের ময়দানে সকল চিন্তা থেকে মুক্তি
২৩তম রোজাঃ
রোজাদারদের জন্য একটি শহর নির্মাণের সুসংবাদ
২৪তম রোজাঃ
যে কোন ২৪টি দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ
২৫তম রোজাঃ
কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা
২৬তম রোজাঃ
রোজাদারকে ৪০ বছর ইবাদতের সমান সওয়াব প্রাপ্তি
২৭তম রোজাঃ
রোজাদারকে চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে দেওয়ার নিশ্চয়তা
২৮তম রোজাঃ
জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুণ করে দেওয়ার সুসংবাদ
২৯তম রোজাঃ
রোজাদারকে ১০০০ কবুল হজের সওয়াব দান
৩০তম রোজাঃ
পুরো রমজান মাসের ফজিলত দ্বিগুন করে দেওয়ার সংবাদ