মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০

কিছু ঔষুধ সেবনের নিয়মাবলীঃ

সাতকাহন

প্রতিটি ঔষুধের যেমন উপকারিতা আছে, তেমনি অপকারিতাও আছে। ঔষুধের উপকারিতা এবং অপকারিতা নির্ভর করে উপসর্গ অনুসারে সেবনের উপর। আবার একাধিক ঔষুধ একসাথে সেবন করলে ঔষধের সাথে ঔষধের ক্রিয়ার ফলে ঔষধের কোন কার্যকারিতা থাকে না। উপরন্তু ঔষধ সেবনকারীর ক্ষতি সাধিত হয়। 
তাই নিয়ম মেনে ঔষধ সেবন করা উচিত। 
চলুন কিছু ঔষধ সেবনের নিয়ম জেনে রাখি ---

১। ব্যথানাশক ঔষধঃ

যেমনঃ ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, ন্যাপ্রোক্সেন, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন ও কিটোরোলাক ইত্যাদি ঔষধ ভরা পেটে সেবন করা উচিত। অন্যথায় অন্ত্র ফুটা হয়ে যেতে পারে। 

২। প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরঃ

যেমনঃ ওমেপ্রাজোল, প্যান্টোপ্রাজোল, ইসোমিপ্রাজোল ইত্যাদি ঔষধ খাবার আধা ঘন্টা আগে সেবন করা উচিত। 

৩। ঠান্ডা - সর্দি বা এলার্জির জন্য এন্টিহিস্টামিনঃ

যেমনঃ লোরাটাডিন, সেটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন ইত্যাদি ঔষধ খালি পেটে সেবন করলে কার্যকারিতা বেশি হয়।

৪। অ্যান্টাসিড ঔষধঃ

অ্যান্টাসিড ঔষধ খাবারের পর না খেয়ে ৩০মিনিট পর সেবন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

৫। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ঔষধঃ

সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ঔষধ খাবার গ্রহণের ২ ঘন্টা পর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে সেবন করা উচিত। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ঔষধ গ্রহণের ২ ঘন্টার মধ্যে দুগ্ধজাত খাবার বা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন বা জিঙ্কযুক্ত খাবার গ্রহন করা উচিত নয়। 

৬। ভিটামিনঃ

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, আয়রন ট্যাবলেট ও মাল্টিভিটামিন খাবার গ্রহণের কয়েক ঘন্টা আগে বা পরে খাওয়া যেতে পারে।

৭। পেনিসিলিন সেবনঃ

পেনিসিলিন খালি পেটে সেবন করাই ভাল।

৮। কোট্রিম সেবনঃ

কোট্রিম সেবন করলে বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। না হলে কিডনিতে পাথর তৈরি করি সমস্যা সৃ‌ষ্টি করতে পারে।

৯। একসাথে অনেক ঔষুধ সেবনঃ

একসাথে অনেক ঔষধ সেবন করলে ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় কোনো কোনো ঔষধের কার্যকারিতা কমতে পারে আবার কোনো কোনো ঔষধের কার্যকারিতা বাড়তে পারে। দুটোই বেশ ক্ষতিকর। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ঔষধ সেবন করতে হবে।

১০। হাঁপানি রোগীঃ

হাঁপানি আছে এমন ব্যক্তির ব্যথানাশক ঔষধ,
বেটা - ব্লকারঃ প্রোপানোলল, এটেনোলল সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

১১। গর্ভাবস্থায় ঔষধ সেবনঃ

গর্ভাবস্থায় ঔষধ সেবন করলে গর্ভধারণ ও ভ্রুনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
যেমনঃ থ্যালিডমাইট, রেটিনয়েড, ক্যান্সারের ঔষধ সেবন করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। 
গর্ভকালীন টেট্রাসাইক্লিন ঔষধ শিশুর দাঁত ও হাড় গঠনে বাধা প্রদান করে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঔষধ শিশুর হাইপোগ্লাইসেমিয়া করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই ইনসুলিন নেওয়া উচিত।

ধন্যবাদান্তে -
ডাঃ কুতুবউদ্দিন মল্লিক স্যার
সহযোগী অধ্যাপক, খুলনা মেডিকেল কলেজ।। 

(পোষ্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।
লাইক দিবেন ও কমেন্ট করবেন।) 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন