যে সব জীবের দেহ মূল, কান্ড, পাতায় বিভক্ত
এবং যারা সূর্যের আলো, বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানির সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
একস্থান হতে আরেক স্থানে চলাচল করতে পারে না, তাকে উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ কলা গাছ।
কান্ডের উপর ভিত্তি করে থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদকে চার ভাগে ভাগ করেছেন।
যেমনঃ
বীরুৎ, গুল্ম, উপগুল্ম, বৃক্ষ
বীরুৎ, গুল্ম, উপগুল্ম, বৃক্ষ
বীরুৎ উদ্ভিদঃ
নরম কান্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে।
যেমনঃ
ঘাস, ধান, গম ইত্যাদি।
গুল্ম উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদ শক্ত শাখা প্রশাখা বিস্তার করে তাদেরকে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
জবা, রঙ্গন ইত্যাদি।
উপগুল্ম উদ্ভিদঃ
গুল্মের চেয়ে ছোট কাষ্ঠল উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে।
যেমনঃ
কুল্কাসুন্দা
বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদঃ
বৃহৎ কাষ্ঠল বিশিষ্ট উদ্ভিদকে বৃক্ষ বলে।
বেন্থাম ও হুকার উদ্ভিদজগতকে সাধারণত দুইভাগ ভাগ করেছেন ।
যথাঃ
সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং অপুষ্পক উদ্ভিদ।
সপুষ্পক উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ হয় এবং বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে, তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
সপুষ্পক উদ্ভিদকে দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদ
আবৃতবীজী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের ফুল, ফল, বীজ হয় এবং বীজগুলো ফলের মধ্যে আবৃত থাকে, তাদেরকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ আম, জাম ইত্যাদি।
আবৃতবীজী উদ্ভিদকে দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
একবীজপত্রী উদ্ভিদ এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।
একবীজপত্রী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে এবং পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস, দেহে অস্থানিক মূলতন্ত্র থাকে, তাকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ নারিকেল, সুপারি, কলা, কচু ইত্যাদি।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে এবং পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস, প্রধান মূলতন্ত্র থাকে, তাকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
নগ্নবীজী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের ফুল, ফল, বীজ হয় এবং বীজগুলো ফলের মধ্যে আবৃত থাকে না, তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ সাইকাস, পাইনাস, নিটাম ইত্যাদি।
অপুষ্পক উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের ফুল, ফল, বীজ হয় না, এরা স্পোরের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে, তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ শৈবাল, ছত্রাক।
অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
সমাঙ্গবর্গীয়, মসবর্গীয়, ফার্ণবর্গীয়
সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদকে মূল, কান্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায় না, তাদেরকে সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ ছত্রাক, শৈবাল ইত্যাদি।
মসবর্গীয় উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদকে কান্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায়, কিন্তু মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে, তাদেরকে মসবর্গীয় উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ রিকসিয়া, মার্কেনসিয়া ইত্যাদি।
ফার্ণবর্গীয় উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদকে মূল, কান্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায়, তাদেরকে ফার্ণবর্গীয় উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ টেরিস, ড্রায়োপ্টেরিস ইত্যাদি।
বেঁচে থাকার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
একবর্ষজীবী, দ্বিবর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী
একবর্ষজীবী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের জীবনকাল এক বছর তাদেরকে একবর্ষজবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
ধান, গম ইত্যাদি।
দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের জীবনকাল দুই বছর, তাদেরকে দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি।
বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদের জীবনকাল অনেক বছর তাদেরকে বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
আদা, হলুদ ইত্যাদি।
পুষ্টির উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
স্বভোজী, পরভোজী, মিথোজীবী
স্বভোজী, পরভোজী, মিথোজীবী
স্বভোজী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে তাদেরকে স্বভোজী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
আম, জাম
পরভোজী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে না, অন্যের উপর নির্ভর করে তাদেরকে পরভোজী উদ্ভিদ বলে।
পরভোজী উদ্ভিদ আবার তিন প্রকার।
যেমনঃ
পরজীবী, মৃতজীবী, পতঙ্গজীবী
পরজীবী, মৃতজীবী, পতঙ্গজীবী
পরজীবী উদ্ভিদঃ
যে সব উদ্ভিদ অন্য উদ্ভিদের উপর আশ্রয় গ্রহন করে এবং আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন করে তাদেরকে পরজীবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
স্বর্ণলতা
মৃতজীবী উদ্ভিদঃ
যারা পঁচা বা মৃত বস্তুর উপর জন্মায় এবং সেখান থেকে খাদ্য গ্রহন করে বেঁচে থাকে তাদেরকে মৃতজীবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
ব্যাঙের ছাতা, মিউকর।
পতঙ্গজীবীঃ
যারা ছোট ছোট পতঙ্গ ভক্ষন করে বেঁচে থাকে তাদেরকে পতঙ্গজীবী উদ্ভিদ বলে।
যেমনঃ
সূর্যশিশির
অনন্যজীবী/মিথোজীবী/সিমবায়োটিক উদ্ভিদঃ
শৈবাল ও ছত্রাকের সমন্বয়ে এক ধরনের জীবের সৃষ্টি হয় তাদেরকে লাইকেন বলে।
সমগ্র উদ্ভিদকুলকে একত্র Flora বলে।
ছোলা, ধইঞ্চা ইত্যাদি বায়ুতে নাইট্রোহতজেনের পরিমাণ বাড়ায়।
কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব বলে।
সূর্যালোকেও জন্মাতে পারে বলে Pteris কে সানফার্ণ বলে।
নগ্নবীজী উদ্ভিদকে আদিম সবীজ উদ্ভিদ বলে।
সম্পাদনাঃ
মোঃ মতিউর রহমান।
বিএসসি, বোটানী
এমএসপি, বোটানী
দিনাজপুর সরকারি কলেজ।





















কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন